MOTHERLAND 24= Website Logo
ঢাকাThursday , 8 January 2026
  1. News Video's
  2. অন্যান্য দল
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আ:লীগ
  6. আইন-আদালত
  7. আন্তর্জাতিক
  8. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
  9. এনসিপি
  10. খুলনা বিভাগ
  11. খেলাধুলা
  12. গন অধিকার পরিষধ
  13. চট্টগ্রাম
  14. চট্টগ্রাম বিভাগ
  15. চাকরি
আজকের সর্বশেষ সব খবর

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ! সংকট কাটাতে জ্বালানি বিভাগের ৫ জরুরি উদ্যোগ—কবে স্বস্তি ফিরবে?

Link Copied!

ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজি সংকট তীব্র, আমদানি বাড়াতে সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

📰 দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকায় চরম সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি বিভাগের নেওয়া ৫ উদ্যোগ কী? জানুন বিস্তারিত।

 

📝 ডেস্ক রিপোর্ট | মাদারল্যান্ড ২৪ :

দেশজুড়ে হঠাৎ করে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো গ্রাহক। রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। চলমান এই সংকট নিরসনে জ্বালানি বিভাগ একাধিক উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি দেশের শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণায় হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা জটিলতা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা ধর্মঘটের পথে হেঁটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে সকাল থেকেই এলপিজি সিলিন্ডারের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। যদিও দেশের কিছু জেলায় এখনো সীমিত পরিসরে বিক্রি চলছে, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে দিন দিন।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিভাগ দ্রুত সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এলপিজির আমদানি বাড়বে এবং বাজারে সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।

প্রথম উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এলপিজি আমদানিকারকদের ঋণপ্রাপ্তির আবেদন ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। অনেক আমদানিকারক অভিযোগ করছেন, আর্থিক জটিলতার কারণে সময়মতো এলসি খুলতে না পারায় আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, এলপিজিকে পরিবেশবান্ধব বা সবুজ জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পাঠানো চিঠিতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃতীয় উদ্যোগ হিসেবে কয়েকটি বড় এলপিজি কোম্পানির আমদানির সীমা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি দিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এতে বাজারে দ্রুত অতিরিক্ত এলপিজি আসার সুযোগ তৈরি হবে।

চতুর্থ উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ।

পঞ্চম ও শেষ উদ্যোগ হিসেবে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আশপাশের স্টোরেজ পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলপিজির প্রকৃত মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার মাধ্যমে সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা চিহ্নিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে আজ বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন ভোক্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈঠকে তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি আবার শুরু হতে পারে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, সরবরাহ বাড়াতে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া কঠিন হলেও সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতিবাচক। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে দীর্ঘদিনের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। অন্যথায় এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, এলপিজি সিলিন্ডার সংকট এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক সমস্যা নয়, এটি জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সরকারের পাঁচ উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ব্যবসায়ীরা কবে বিক্রি শুরু করেন—সেদিকেই এখন সবার নজর। ◾তথ্যসূত্র

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।   MOTHERLAND-24-Website-Logo.png