◾মাধ্যমিক স্তরের সাড়ে ১১ কোটি বই ছাপা হয়নি; শিক্ষার্থীরা নতুন বর্ষে বই ছাড়াই স্কুল-কলেজে যাবে
📰 ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ে ভয়াবহ বঞ্চনা — ১ জানুয়ারি নতুন বর্ষ শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েকদিন, তবু সাড়ে ১১ কোটি বই মুঠোয় আসেনি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সিন্ডিকেট ও গণ্ডগোলের কারণে শিক্ষার্থীরা বই ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারেন। বিস্তারিত জানুন।
📝 ডেস্ক রিপোর্ট | মাদারল্যান্ড ২৪:
আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বিশাল সংকট দেখা দিয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ পাঠ্যবই এখনও ছাপা হয়নি, ফলে প্রায় ১ কোটি শিক্ষার্থী নতুন বইয়ের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত হতে পারে, এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনা শিক্ষাবর্ষ শুরুতে সময়মতো বই না পেলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুল মানসিক ও শিক্ষাগত সমস্যা সৃষ্টি করবে। বিশেষত যারা ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে নবাগত, তারা নতুন বই ছাড়া ক্লাসে যোগ দেবে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় বৈপ্লবিক সংকেত।
🔸বই প্রিন্টিং বিপর্যয়ের পেছনের কারণ
সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-র দায়িত্বে থাকা একটি সিন্ডিকেটদ্বারা বই ছাপার কাজ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠিত কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী যাতে বই ছাপার কাজ নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত কমিশন ও সুগঠিত বিতরণ চেইন থেকে উপকৃত হয় — এমন অভিযোগ রয়েছে।
এনসিটিবির পক্ষ থেকে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানো হওয়ার কথা ছিল, এর মধ্যে প্রায় ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার বই মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এতে মাত্র অল্পসংখ্যক বই ছাপা এবং বিতরণ করা হয়েছে সমগ্র লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়।
ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বই পৌঁছানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকাশকদের সঙ্গে দরপত্রে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার কারণে অগত্যা বই ছাপার গতি কমে গেছে।
এতে দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ বই ছাপা প্রক্রিয়াকে সময়মতো শেষ করতে পারেনি।
🔸শ্রেণিভিত্তিক বইয়ের দুর্দশা
তদন্তে দেখা গেছে শ্রেণি-ভিত্তিক বইয়ের অবস্থাও খুবই উদ্বেগজনক:
অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ছাপা হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ, অর্থাৎ মাত্র ১৮ লাখ ৯ হাজার বই।
সপ্তম শ্রেণির বইয়েরও মাত্র ৭০ লাখ ৫৫ হাজার বই ছাপা হয়েছে।
ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই তুলনায় ভাল হলেও তা সন্তোষজনক নয়।
এই ভগ্নচর পরিস্থিতির কারণ হিসেবে দায়িত্বে থাকা সিন্ডিকেটের চক্রান্তকে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বই না পেয়ে ক্লাসে উপস্থাপন করলে ছাত্র-ছাত্রীদের শেখা-শুনার গতি ব্যাহত হবে। বিশেষত অষ্টম শ্রেণির ছাত্ররা যাতে নতুন বই না পেয়ে সহকামী পাঠ্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়বে, সে বিষয়ে শিক্ষাবিদরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
🔸শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
একাধিক শিক্ষাবিদ বিবৃতি দিয়েছেন যে এই পরিস্থিতিতে শিশুদের মৌলিক শিখন অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের উচিত শিক্ষা ব্যবস্থায় সময়মতো বই নিশ্চিত করা।
তারা আরো বলেছেন প্রশাসনিক দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে বিপদে ফেলছে।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, “নতুন বই পেতে না পারলে আমাদের সন্তানরা বই ছাড়া শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দায়সারা শিক্ষায় পড়ে যাবে। আমরা সরকারের কাছে চাই সরাসরি হস্তক্ষেপ।”
এক অভিভাবক বলেন, “এটা শুধু বই সংকট নয়, এটা ছাত্রদের মৌলিক অধিকারকে উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট ও লোভের খেলায় শিক্ষার ভবিষ্যৎকে বাজি ধরে ফেলার সমতুল্য।”
🔸সরকারী ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের করণীয়
বিশেষজ্ঞরা দাবী করেছেন:
সরকার দ্রুত আন্তর্জাতিক পরামর্শ নিয়ে বই ছাপানো শুরু করতে হবে।
এনসিটিবি ও সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
গণপরিবেশ ও শিক্ষা অধিদপ্তর পর্যায়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এটি শুধুই একটি শিক্ষা সমস্যা নয় — এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মানবসম্পদ ও জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রশ্ন।
🔸সংকট গ্রাফ:
মোট ছাপা হওয়া বই: ~১৮ লাখ (অষ্টম শ্রেণি)
দাবীকৃত বই: ~১১ কোটি+
বই না থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা: ~১ কোটি+
এ পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল করতে না পারলে শিক্ষাবর্ষের শুরু শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করবে। ◾তথ্যসূত্র
